চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ভিডিও পাঠিয়েছে ভারতের চন্দ্রযান। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) আজ শুক্রবার ভিডিওটি শেয়ার করেছে।
মহাকাশে দীর্ঘ ১ মাস ৯ দিনের যাত্রা শেষে ভারতের মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩ গত বুধবার চাঁদের বুকে অবতরণ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের এলিট ‘স্পেস ক্লাবে’ জায়গা করে নেয়। বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারত এ গৌরব অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দেশটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণের দিক থেকে প্রথম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রোভার চন্দ্রপৃষ্ঠে নামার সময় দৃশ্যটি ধারণ করা হয় ল্যান্ডার ক্যামেরায়। ভিডিওর সঙ্গে চাঁদের পৃষ্ঠে চন্দ্রযান-৩ রোভার প্রজ্ঞানের একটি ছবিও শেয়ার করেছে ইসরো। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রযান-৩ সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থ দেশ হিসেবে চন্দ্রপৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণ করার গৌরব অর্জন করে ভারত।
মহাকাশযানটি চন্দ্রপৃষ্ঠে চাঁদের ধূলিকণা, তাপমাত্রাসহ অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে বলে জানিয়েছে ইসরো। মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ সচল রাখার ওপর এর প্রভাব পড়বে। ইসরো জানিয়েছে, তারা চাঁদের মাটিতে এখন ব্যস্ত দিন পার করছে। চাঁদে ১৪ দিনের কাজ হাতে নিয়ে নেমেছে চন্দ্রযান-৩। চাঁদে ১৪ দিন পর সূর্যাস্ত হলে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়বে তারা।
বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের যেসব যন্ত্রপাতি সাহায্যে চাঁদে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে কিংবা সংগ্রহ করবে তথ্য, সেই সব যন্ত্র চলবে সৌরশক্তিতে। চাঁদে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত হতে সময় লাগে পৃথিবীর হিসাবে ১৪ দিন। এতে করে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়বে তারা।
বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারির জানান, ইসরো বিষয়টিকে একেবারে নাকচ করে দেয়নি ঠিকই। তবে বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের বেঁচে থাকা নির্ভর করছে ‘যদি’ এবং তবের ওপর। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ১৪ দিনের সকাল কাটানোর পর নামবে ১৪ দিনের অতিশীতল রাতও। এই ১৪ দিন সূর্যরশ্মির একটি কণাও প্রবেশ করবে না চাঁদের দক্ষিণমেরুতে। তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ৩০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত। তাতে চন্দ্রযান-৩-এর যন্ত্রপাতির বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।